ভালোবাসা কুরবানির ইতিহাস !
তখন সবেমাত্র গ্রামের স্কুলে আমার হাতেখড়ি, পাঠখড়ি চলছে। বয়সটা নিতান্তই চার-পাঁচের বেশি হবে না। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও সত্যি তখনই আমার মনে প্রথম প্রেমের আবেশ টের পাই।
হণুফা! সম্পর্কে আমার চাচতো ফুফাতো বোন। আর বয়সেও ৬-৭ বছরের বড়। সে তার মামা বাড়ি এলেই কেন জানি অস্থির মনে স্থির চোখ তার দিকে চেয়ে থাকতো। তার কণ্ঠ শুনলেই জানালা দিয়ে তাকে খুঁজতাম। আমার ভালোবাসার প্রতিমা খুঁজে পেতাম তার মাঝে।
এরপর মফস্বলে চলে আসি। সেই সাথে ভেঙ্গে যায় আমার প্রথম ভালোবাসা। আর তখন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি—আর কখনই কোন সিনিয়র আপুর প্রেমে পড়ব না।
তখন সবেমাত্র রহমতপুর প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস থ্রি-তে ভর্তি হয়েছি। দেখলাম ছেলে আর মেয়ে একই রুমে ক্লাস করছে। (আমার প্রথম স্কুলে ছেলে আর মেয়েদের রুম আলাদা ছিল।)
রোজি! কিউট কিউট চেহারা! আবার প্রেমের অনুভূতি! কিন্তু সেখানে বড় বাঁধা ছেলে আর মেয়েদের আলাদা কোরাম। ছেলেদের নেতৃত্বে জুয়েল আর মেয়েদের নেতৃত্বে রোজি। মাঝখানে আমার ভালোবাসা ফাঁটাবাঁশে।
ক্লাস ফোরে এসে ফাঁটাবাঁশ থেকে মুক্তি পেলাম। মনোয়ারা হক আপা বললেন—“তোরা ছেলেরা আর মেয়েরা ভাই-বোনের মতো, বন্ধুর মতো মিশে থাকবি। লেখাপড়ায় একে অন্যের সাহায্য করবি। আর নোট না কিনে বই দিয়ে উত্তর পড়বি। জিয়া যেমন বইয়ের ভেতর থেকে উত্তর পড়ে।”
যাইহোক, আপার ক্লাস শেষে রোজি এসে আমার পাশে বসলো। কাঁধে হাত রেখে আমায় সুধালো সেই অমৃত বাণী—“এখন থেকে আমরা বন্ধু। তুমি কীভাবে বই থেকে উত্তর খুঁজে পড়? আমায় একটু দেখিয়ে দিবে?”
(হ্যারপরই হঠাৎ কইর্যা মোরে ভালোবাসায় চ্যাঁতাইয়া হালাইলে।)
আমার নায়িকা, স্বপ্নের নায়িকা রোজি। বাঁ হাতি রোজি। আমার ডানাকাটা পরী। কিন্তু এই ভালোবাসা আমার কপালে সইলো না। ক্লাস ফাইভ। রোজির চলে যাওয়া। আর আমার প্রতিজ্ঞা—আর কখনই সহপাঠী কোন মেয়ের প্রেমে পড়ব না।
আবারও ক্লাস ফাইভ। আবারও প্রেমের ছোঁয়া। তবে এবার আমি নই—যার প্রেমে পড়লাম সে ক্লাস ফাইভে; আর আমি নাইনে।
নায়িকার অতর্কিত আক্রমণ; আর আমার হাত ধরে বসা। ভালোবাসার শিকলে আবদ্ধের প্রথম ধাপ। এরপর সময় গড়িয়েছে ৭ বছর। ১৯ নভেম্বর—তার চলে যাওয়া। আর কালো ব্যাচে আমাদের মানববন্ধন।
তবে এবার আর কোন প্রতিজ্ঞা নয়। কারণ—আমি বাবা হতে চাই ।