অসংজ্ঞায়িত সম্পর্ক
পৃথিবীতে কিছু সম্পর্ক হয় অসংজ্ঞায়িত। না প্রেমী, না বন্ধু, না অন্য কিছু। এধরনের পরিচয়টা হয় অদ্ভুতভাবে—কোন সাদৃশ্য থেকে।
ওঁর সাথে আমার পরিচয়টা তেমন। মাঝেমধ্যে দেখা হওয়া, কুশলাদি জিজ্ঞেস আর হালকা আলাপচারিতা। ধীরে ধীরে অসংজ্ঞায়িত সম্পর্ক।
আমাদের পরিচয়টা খুব অল্প দিনের। এভাবে মেশা হবে, জানা হবে, মায়া হবে—ভাবিনি।
কাজ শেষে দেখা করা, একসাথে হাঁটা, খাবার ভাগ করে খাওয়া, বসে বসে গল্প করা, বৃষ্টিতে আটকা পড়া, চায়ে চুমুক দেওয়া—সবকিছুই স্মৃতি হয়ে থাকবে।
কাগজ-কলম হাতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে না লিখে বাজারের ফর্দ তৈরি করা। কী কিনব, কোনটা নেব, দুজন মিলে হেনতেন আলাপ করে সামান্য কিছু বাজার করা।
আমার জন্য রান্না করে নিয়ে আসা। (ওঁর রান্নাটা বেশ মজার ছিল।)
মেয়েটা ঝাল খেতে পারে না। ঝাল মুড়ির কাঁচামরিচ খেয়ে দুহাতে কান চেপে লাল হয়ে যাওয়া—সাদা ক্যানভাসে আঁকা গোধূলি।
খেতে জোর করা, “বেশি ঢং করবেন না” বলে শাসানো, কথায় কথায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া—অধিকার কেউ কাউকে দেয় না; হয়ে যায়।
কিন্তু…
আজ আমাদের শেষ দেখা। হুম, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ দেখা। এরপর আর কখনো কল করে দেখা করা হবে না।
এই সিদ্ধান্তটা পরিচয়ের শুরুতেই নিয়েছিলাম। কিছু কিছু সম্পর্ক নামহীন আর স্বল্পমেয়াদী হওয়াই ভালো।
কী অদ্ভুত! আমরা একই শহরে পাশাপাশি এলাকায় থাকি। অথচ আমরা আর কখনো দেখা করব না।
যদি বেঁচে থাকি হয়তো কখনো হঠাৎ আবার দেখা হবে। সেদিন এক অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করব—কেমন আছো? আমাদের আবার দেখা হলো।
জানি না আমাদের আর কখনো দেখা হবে কিনা। হয়তো হবে না, অথবা অনেক বছর পর। হয়তো সেদিন আর চিনব না, অথবা ঝাঁপসা স্মৃতি।
আমি কোন মায়ায় আটকা পড়তে চাই না। আটকাতেও চাই না। মেয়েটার চোখগুলো ভীষণ অদ্ভুত—বদরাগী কিন্তু মায়াবী। আর হাসি—শরতের মেঘ।